GIS কী? নতুনদের জন্য সহজ গাইড
IGRS Team
3 min read
প্রতিদিন সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গবেষকেরা এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি হন, যার উত্তর নির্ভর করে কোনো কিছু কোথায় অবস্থিত তার ওপর। কোন এলাকা সবার আগে প্লাবিত হয়? নতুন স্কুল কোথায় হওয়া উচিত? এই মৌসুমে কোন জমির ফসল চাপে আছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যে টুলগুলো সাহায্য করে, সেগুলোর সমষ্টিই হলো জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম, বা GIS।
GIS আসলে কী
GIS হলো এমন একটি সফটওয়্যার, যা অবস্থানযুক্ত ডেটা সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও দৃশ্যমান করে। এই অবস্থান হতে পারে একটি বিন্দু (যেমন একটি নলকূপ), একটি রেখা (যেমন একটি রাস্তা বা নদী), অথবা একটি এলাকা (যেমন একটি জেলা, একটি খামার বা একটি বন্যাপ্রবণ অঞ্চল)। প্রতিটি রেকর্ড পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট স্থানের সঙ্গে যুক্ত থাকে। তাই বিভিন্ন ডেটাসেট একটির ওপর আরেকটি বসিয়ে দেখা যায়, সেগুলো পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত।
একে কয়েকটি স্বচ্ছ মানচিত্রের স্তর হিসেবে ভাবতে পারেন। একটি স্তরে রাস্তা, আরেকটিতে নদী, তৃতীয়টিতে জনসংখ্যা। GIS দিয়ে এই স্তরগুলো একটির ওপর আরেকটি সাজানো যায়, তুলনা ও পরিমাপ করা যায়, এবং সবগুলো স্তর মিলিয়ে একসঙ্গে প্রশ্ন করা যায়।
ডেটার দুটি প্রধান ধরন
GIS দুই ধরনের স্থানিক (spatial) ডেটা নিয়ে কাজ করে:
ভেক্টর ডেটা বিভিন্ন বস্তুকে বিন্দু, রেখা ও বহুভুজ (polygon) আকারে উপস্থাপন করে। প্রতিটি বস্তুর সঙ্গে বৈশিষ্ট্য (attribute) যুক্ত থাকতে পারে। যেমন, একটি রাস্তার সঙ্গে থাকতে পারে তার নাম, প্রস্থ ও উপরিভাগের ধরন।
রাস্টার ডেটা হলো ছবির মতো কোষ বা সেলের একটি গ্রিড। স্যাটেলাইট ছবি, উচ্চতা মডেল (elevation model) ও ভূমি-আচ্ছাদন মানচিত্র রাস্টার ডেটার উদাহরণ। এখানে প্রতিটি সেলে একটি মান থাকে, যেমন উচ্চতা বা প্রতিফলন (reflectance)।
কখন কোন ধরনের ডেটা ব্যবহার করতে হবে, সেটি জানা একজন GIS শিক্ষার্থীর প্রথম দিকের দক্ষতাগুলোর একটি।
GIS দিয়ে কী কী করা যায়
আপনার ডেটা GIS-এ নেওয়ার পর আপনি:
মানচিত্র তৈরি করতে পারবেন, যা তথ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। সাধারণ অবস্থান মানচিত্র থেকে শুরু করে বিস্তারিত বিষয়ভিত্তিক (thematic) মানচিত্র পর্যন্ত।
দূরত্ব, আয়তন ও যাতায়াতের সময় পরিমাপ করতে পারবেন।
ডেটা থেকে কোয়েরি করতে পারবেন। যেমন, "নদী থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সব ইউনিয়ন দেখাও"।
বিভিন্ন প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করতে পারবেন। যেমন, রোগের হটস্পট খুঁজে বের করা, বা সময়ের সঙ্গে ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন দেখা।
বিভিন্ন পরিস্থিতির মডেল তৈরি করতে পারবেন। যেমন, নদীর পানি দুই মিটার বাড়লে কোন কোন এলাকা ডুবে যাবে।
রিমোট সেন্সিং কোথায় যুক্ত হয়
রিমোট সেন্সিং হলো দূর থেকে পৃথিবী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। সাধারণত এটি করা হয় স্যাটেলাইট, বিমান বা ড্রোনের মাধ্যমে। GIS-এর জন্য স্যাটেলাইট ছবি সবচেয়ে সমৃদ্ধ ডেটা উৎসগুলোর একটি। এই দুটি একসঙ্গে ব্যবহার করে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে ফসল পর্যবেক্ষণ, বন্যার মানচিত্র তৈরি, নগরায়ণ অনুসরণ এবং বনভূমি নিয়ে গবেষণা করা যায়।
বাংলাদেশে GIS কীভাবে ব্যবহৃত হয়
নদী, বর্ষা ও দ্রুত প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছে। এমন একটি দেশে GIS বিশেষভাবে মূল্যবান। এর প্রচলিত ব্যবহারগুলোর মধ্যে রয়েছে:
বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি মানচিত্রায়ন এবং দুর্যোগে সাড়াদান
কৃষি পর্যবেক্ষণ ও ফসলি জমির আয়তন নিরূপণ
নগর ও অবকাঠামো পরিকল্পনা
স্বাস্থ্য, আদমশুমারি ও উন্নয়ন কর্মসূচির পরিকল্পনা
নদীভাঙন ও উপকূলীয় পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা
কীভাবে শুরু করবেন
শুরু করার জন্য প্রোগ্রামিং জানার প্রয়োজন নেই। প্রথম ধাপ হিসেবে QGIS-এর মতো একটি ডেস্কটপ GIS শিখে নিতে পারেন, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এরপর বাস্তব ডেটা দিয়ে অনুশীলন করুন। একটি জেলার সীমানা লোড করুন, কয়েকটি পয়েন্ট যোগ করুন, স্তরগুলো সাজান এবং আপনার প্রথম মানচিত্রটি তৈরি করুন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে স্থানিক বিশ্লেষণ, স্যাটেলাইট ছবি ও অটোমেশনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।
একজন প্রশিক্ষকের সঙ্গে গোছানো পথে শিখতে চাইলে আমাদের কোর্সগুলো দেখুন: Courses
Ready to learn GIS hands-on?
Expert-led online courses in QGIS, ArcGIS and remote sensing.